ফ্রান্স সরকার দেশের ক্রমহ্রাসমান জন্মহার রোধে একটি নতুন নীতি চালু করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ‘জনসংখ্যাগত পুনর্গঠন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুন) থেকে বেতনসহ অতিরিক্ত অভিভাবকত্ব ছুটি কার্যকর হয়েছে। এই ছুটির আওতায় সন্তানের মা ও বাবা উভয়েই সুবিধা পাবেন।
নতুন ছুটির বিস্তারিত
পূর্বে ফ্রান্সে প্রথম সন্তানের জন্য মায়েদের প্রায় চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বাবাদের জন্য ২৮ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি ছিল। নতুন নিয়মে বিদ্যমান ছুটির পাশাপাশি বাবা-মা অতিরিক্ত এক বা দুই মাসের ছুটি ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। প্রথম মাসে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ ভাতা হিসেবে পাবেন।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের মা-বাবা এবং দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবকেরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।
জন্মহারের সংকট
সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়ে জন্মহার কমছে। ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে দেশটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো মৃত্যুর সংখ্যা শিশু জন্মের চেয়ে বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ নিম্নমুখী জন্মহার ও বন্ধ্যাত্ব সমস্যা মোকাবিলায় একটি বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় এই নীতি বাস্তবায়িত হলো।
সমালোচনা ও নারী অধিকার
তবে নারী অধিকারবাদী সংগঠনগুলো এই সংস্কারকে পুরোপুরি স্বাগত জানায়নি। ফেমিনিস্ট গ্রুপগুলোর মতে, এই সংস্কার লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে খুব একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না। তাদের দাবি, পরিবারগুলোতে সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের আয় কম থাকে। ফলে অর্থনৈতিক বিবেচনায় এই অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে থাকবেন, যা কর্মক্ষেত্রে তাদের আরও পিছিয়ে দিতে পারে।
সূত্র: জিও নিউজ।



