ইউরোপের নতুন আতঙ্ক: হুথি জ্বরে কাঁপছে পুরো মহাদেশ
ইউরোপের নতুন আতঙ্ক: হুথি জ্বরে কাঁপছে মহাদেশ

ইউরোপের নতুন আতঙ্ক: হুথি জ্বরে কাঁপছে পুরো মহাদেশ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সংঘাতের ডালপালা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অঞ্চলে। এই প্রেক্ষাপটে এখন ইউরোপের জন্য নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে হুথি গোষ্ঠী। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের এই সশস্ত্র সংগঠনটি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে ভীতি বিরাজ করছে। এবার তারা ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে সতর্কতা অবলম্বন করছে।

ইইউর নৌ-মিশনের সতর্ক অবস্থান

লোহিত সাগরে মোতায়েনকৃত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ-মিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা ইরানের প্রতি হুথিদের ক্রমবর্ধমান সমর্থন ও কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মিশনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ 'অপারেশন আস্পাইডস' শীর্ষক ধারাবাহিক পোস্টের মাধ্যমে শিপিং শিল্পের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যানেলের মাধ্যমে চলাচলের সময় সহায়তা চাইতে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

মিশন কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করেছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের সমস্ত সম্পদ লোহিত সাগর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে মোতায়েন রয়েছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৩ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রভাব

এর আগে ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুথি গোষ্ঠী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। সেই সময় থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছে ইসরাইলি ও বিভিন্ন পশ্চিমা নৌযান, যেগুলো মূলত তেল আবিবের নীতিকে সমর্থন করছিল। ওই সময় হুথি আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

সেই সংকটকালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য নৌযানগুলোকে দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। তাদেরকে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল ঘেঁষে বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য করা হয়, যা সময় ও ব্যয় উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত বিড়ম্বনাকর ছিল। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে যাতে একই ধরনের সংকট পুনরাবৃত্তি না হয়।

ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রস্তুতি

বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথি গোষ্ঠীর কার্যক্রম শিপিং শিল্প ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের নৌ-মিশনের মাধ্যমে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে:

  • লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা
  • বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য সহায়তা চ্যানেল সক্রিয় রাখা
  • হুথিদের গতিবিধি ও ইরানের সাথে তাদের সম্পর্ক কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা
  • আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বয় বজায় রাখা

এই সতর্কতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে ইউরোপ আশা করছে যে, তারা যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করবে। সূত্র: আল জাজিরা।