এস্তোনিয়ায় সমুদ্রের বরফে তৈরি হয়েছে আইস রোড, গাড়ি চলছে নিয়মিত
উত্তর ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ায় এবারের শীতে তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রের পানি জমে শক্ত বরফে পরিণত হয়েছে, যার ওপর দিয়ে এখন গাড়ি চলাচল করছে। এই দৃশ্য ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হচ্ছে, মানুষ এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে যাচ্ছেন সমুদ্রের ওপর দিয়েই।
কীভাবে তৈরি হলো আইস রোড?
টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় এস্তোনিয়ার হ্রদ, নদী এবং সমুদ্রের পানি সম্পূর্ণরূপে জমাট বেঁধে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিম এস্তোনিয়ায় বাল্টিক সাগর ও রিগা উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত সারেমা ও হিউমা দ্বীপের মধ্যবর্তী অঞ্চলটি বরফে আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা তৈরি করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে আইস রোড। গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয় এবং সেদিন থেকেই সেখানে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে।
দ্বীপবাসীর জন্য আইস রোডের গুরুত্ব
হিউমা দ্বীপে মাত্র ৯ হাজার মানুষ বসবাস করেন, যাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে সারেমা দ্বীপে যেতে হয়। সারেমায় ৩১ হাজার মানুষের বাস, এবং সেখান থেকে এস্তোনিয়ার মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করা যায়। আগে ফেরি চলাচলের মাধ্যমে এই যোগাযোগ হতো, কিন্তু তীব্র শীতে সমুদ্র জমে যাওয়ায় ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে আইস রোড খোলার সিদ্ধান্তটি প্রয়োজন থেকেই নেওয়া হয়েছে। হিউমার মেয়র হারগো তাসুয়া বলেন, এটি কেবল একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতিরও অংশ। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, স্থানীয় মানুষরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শীতকালে সমুদ্রের বরফের ওপর হাঁটতে অভ্যস্ত, যা তাদের রক্তে মিশে আছে।
আইস রোডের নিরাপত্তা ও নিয়মাবলী
এই রাস্তা তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের প্রতি ১০০ মিটার পরপর বরফের পুরুত্ব মাপতে হয়েছে। ন্যূনতম ২৪ সেন্টিমিটার পুরুত্ব থাকলেই কেবল গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়াও, আইস রোডে চলাচলের জন্য কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়:
- গাড়ির ওজন সর্বোচ্চ আড়াই টন হতে পারে।
- গতি ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের নিচে অথবা ৪০ থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।
- এই সীমার বাইরে গেলে কম্পন তৈরি হয়ে বরফের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই অনন্য ঘটনাটি শুধু স্থানীয়দের জন্যই সুবিধা তৈরি করেনি, বরং এটি এখন একটি পর্যটন আকর্ষণেও পরিণত হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে আইস রোডের ছবি ও ভিডিওগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী মানুষের কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এস্তোনিয়ার এই আইস রোড প্রকৃতির সঙ্গে মানবিক অভিযোজন ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে।
