টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় বন্যা, ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় বন্যা, পানিবন্দী ১৫ হাজার পরিবার

পাঁচ জেলায় বন্যা, ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী

টানা কয়েক দিনের অতিভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া উপজেলায় অন্তত ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রামের আট উপজেলা প্লাবিত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দী থাকায় অনেক বাড়িতে রান্না হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ নেই। সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত তিনটি গ্রামের নিচু এলাকার শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জঙ্গল ভাটিয়ারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ১২০টির ঘরে পানি ঢুকেছে।

চকরিয়ায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। টানা ভারী বর্ষণের ফলে মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, বরইতলী, হারবাং, ডুলাহাজারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অন্তত ৬ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।” মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী, বদরখালী, ঢেমুশিয়া, সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএম চর ইউনিয়নে অন্তত ৩ হাজার ৭০০ পরিবার পানিবন্দী। পেকুয়া উপজেলায় আরও পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পার্বত্য চট্টগ্রামে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবানে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় আলীকদম, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের সেতুটি পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, প্রবল বর্ষণে অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে, ফলে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়িতে সড়ক তলিয়ে যানচলাচল বন্ধ

খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি দ্রুত বাড়ছে। জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে।

নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় সাঙ্গু, ডলু ও টঙ্কাবতী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা ও আধুনগর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে, ফলে কৃষকদের ফসল তলিয়ে গেছে। বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল ও প্রেমাশিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতা

এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঢলের পানিতে খামারের মাছ ভেসে গেছে এবং ফসলের খেত ডুবেছে। সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পানিবন্দী পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করছে। চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নে পাহাড়ধসে দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে হতাহত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে।