গাইবান্ধায় নদীভাঙনে ৫০ বছরের সম্পদ ৫০ মিনিটে নদীগর্ভে
গাইবান্ধায় নদীভাঙনে ৫০ বছরের সম্পদ নদীগর্ভে

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া গ্রামে শনিবার (৫ জুলাই) হঠাৎ করেই ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভাঙনে আশপাশের অন্তত ২০টি পরিবারের জমি, বাড়িভিটা, গাছ ও আবাদি জমি পরিবারের লোকজনের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নজির উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘৫০ বছরের কষ্টে উপার্জিত সম্পদ ৫০ মিনিটেই শেষ। জমি বাড়িভিটা, সবজি ও পাটখেত গাছগাছালি সব মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল চোখের সামনে।’

ভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর করুণ অবস্থা

শনিবার বিকাল থেকে খলাইহারা ও দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া গ্রামে ভাঙন শুরু হলে নদী তীরে শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে আল্লাহকে ডাকতে থাকেন। অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সময় পাননি। তাদের চোখের সামনেই জমি, গাছপালা ও বাড়িভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদী তীরে নারী-পুরুষের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কেউ কেউ সাংবাদিক দেখে তেড়ে আসেন, আবার কেউ আক্ষেপ করে বলেন, ‘ডিসি সাহেব দেখে গেলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর আশ্বাসের তিন দিনেও কিছুই হলো না।’

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ভাঙনরোধের উদ্যোগ

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙন রোধে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং সোমবার (৬ জুলাই) থেকে ওই এলাকায় ভাঙনরোধের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। আরও কিছু জায়গায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তব চিত্র দেখেছেন। ভাঙনরোধে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নজির উদ্দিনের মতো অনেকেই প্রশাসনের আশ্বাসে আস্থা হারিয়েছেন। তারা বলছেন, ‘গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পাউবোর কর্মকর্তার আশ্বাসের পরও শুরু হলো না ভাঙনরোধের কাজ।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার বা এমপিকে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন রোধে আমরা ইতিমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ করেছি। সোমবার থেকে কাজ শুরু হবে।’ জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমি এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা দেখেছি। পাউবোকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছি।’