কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মধুশিয়া গর্জন বনে হাতির চলাচলের পথে (করিডর) সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা। সোমবার দেশের পাঁচটি স্থানে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি সংগঠন। এসব মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল ও শেরপুরে।
বিকল্প পথ থাকা সত্ত্বেও কেন বন ধ্বংস?
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিকল্প থাকা সত্ত্বেও বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস করে সড়ক কেন করতে হবে—সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা। মানববন্ধন থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বৈতরণী সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রস্তাবিত সড়ক প্রকল্পটিও বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন। মানববন্ধনের আহ্বায়ক ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, ‘কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গা বসতি স্থাপন আমাদের বন ও বন্যপ্রাণীর ভয়াবহ ক্ষতি করেছে। এরপর এক রেললাইনের জন্য সাত লাখ গাছ ও ২৬টি পাহাড় ধ্বংস করা হয়েছে। এভাবে মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতির করিডর ও প্রজননস্থল মারাত্মকভাবে নষ্ট করা হয়েছে।’
অনন্যা ফারিয়া বলেন, এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হলে একদিকে বনাঞ্চল যেমন ধ্বংস হবে, অন্যদিকে হাতির চলাচলের পথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের বিকল্প বের করার আহ্বান জানান।
হাতির সংখ্যা কমেছে
মানববন্ধনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র সাত্তার বলেন, বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা কমে এসেছে। হাতির আবাসস্থল জুড়ে এ ধরনের সড়ক হলে সেটা চলাচলকে আরও সংকুচিত করবে।
চট্টগ্রামে মানববন্ধন
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মী রাসেল মাহফুজ বলেন, মধুশিয়া গর্জন বনটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি বন। একই সঙ্গে এটি মহাবিপন্ন হাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর। দেশের আইন অনুযায়ী বনভূমিকে বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যায় না। দেশের সংবিধানেও বলা আছে, বর্তমান ও পরবর্তীতে প্রজন্মের জন্য বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করবে সরকার। দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ ধরনের প্রকল্প থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি
কক্সবাজারের চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতর দিয়ে ৫ কিলোমিটার একটি সড়ক নির্মাণ করতে সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাছে অনাপত্তি পত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সড়কটি নির্মাণ করা হলে এ প্রাকৃতিক বন উজাড় হওয়াসহ হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে বন বিভাগের এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল ও শেরপুরেও মানববন্ধন
মানববন্ধনে পরিবেশকর্মী রিতু পারভি বলেন, বিকল্প থাকা সত্ত্বেও বন্যপ্রাণী ও বন ধ্বংস করে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাদের স্বার্থে সড়ক করতে চায়, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এ ছাড়াও টাঙ্গাইলের মধুপুরে ও শেরপুর জেলায় বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে প্রকৃতি ও পরিবেশকর্মীরা।



