৩৯ বছরের শিক্ষকতা শেষে অবসরে গেলেন প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাস
৩৯ বছরের শিক্ষকতা শেষে অবসরে সুখ রঞ্জন বিশ্বাস

দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১২৪ নম্বর নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাস। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদায় সংবর্ধনা শেষে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে করে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

এদিন প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তার কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। আবেগঘন এই আয়োজনে উপস্থিত অনেকের চোখেই জল নেমে আসে।

বিদায়ী বক্তব্যে সুখ রঞ্জন বিশ্বাস দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সহকর্মী ও অতিথিরা জানান, সুখ রঞ্জন বিশ্বাস শুধু একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির একজন প্রকৃত অভিভাবক ও পরামর্শদাতা। তার সততা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার প্রতি একাগ্রতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা ও বক্তব্য

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিদায় সংবর্ধনায় উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, চরপাথালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী কৃষ্ণ পালসহ স্থানীয় শিক্ষক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষকতা জীবনের ইতিহাস

সুখ রঞ্জন বিশ্বাসের শিক্ষকতা জীবনের শুরু হয় ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর, সাদুল্ল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। পরের বছর তিনি দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হন। ১৯৯৬ সালের ১০ জানুয়ারি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর একই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও বিদায়

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি সুসজ্জিত প্রাইভেটকারে করে বিদায়ী এই শিক্ষককে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।