কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের জামতলী ক্যাম্প ১৫-এর ব্লক ডি/৬-এ রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের (৪৪) বাড়ির ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসেন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।
উদ্ধার অভিযান ও হতাহতের বিবরণ
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং দুই আহতকে উদ্ধার করে। অন্যদিকে, একই রাতে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৭-এর ব্লক ডি/৭-এ পাহাড়ের ঢাল ধসে সাত বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরাম নিহত হয়। সে মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের কমিউনিটি লিডার এনায়েত উল্লাহ জানান, ঘটনার পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
এরপর ভোর ৩টার দিকে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১১-এর ব্লক সি/১১-এ আরেকটি ভূমিধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত এবং একজন আহত হন। নিহতরা হলেন আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।
কক্সবাজার শহরে পৃথক ভূমিধস
এদিকে, কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টর ঘোনা এলাকায় পৃথক ভূমিধসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোর ৪টার পর এ ঘটনা ঘটে। ভূমিধসে একই পরিবারের তিন সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আলী আকবরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রশাসনের সতর্কতা
উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, 'ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত মাইকিং করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।'
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে এ বৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।



