বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ৪২টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এসব তথ্য জানানো হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে।
আবহাওয়ার সতর্কতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হকের স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৭ জুলাই থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় সেখানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেশি।
আশ্রয় কেন্দ্রের বিবরণ
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪২টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে ৯টি, বাইশারীতে ৯টি, ঘুমধুমে ৮টি, দৌছড়িতে ৮টি এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নে ৮টি আশ্রয় কেন্দ্র রাখা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্র তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব ইলাহী, বাইশারী ইউনিয়নের দায়িত্বে এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী রুবেল আহমেদ, ঘুমধুম ইউনিয়নের দায়িত্বে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রিমন রুদ্র, দৌছড়ি ইউনিয়নের দায়িত্বে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুর রহিম এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের দায়িত্বে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ।
প্রস্তুতি ও নির্দেশনা
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও সম্ভাব্য প্লাবিত নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান বলেন, "টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আমরা ৪২টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।"



