বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি মানুষের দুর্ভোগ। টানা কয়েক দিনের ভারিবর্ষণ ও মাতামুহুরি নদীর উপচেপড়া পানিতে প্লাবিত পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও অলিগলি এখন কাদা, পলিমাটি ও আবর্জনায় ছেয়ে গেছে। ফলে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হতে পারছে না। দ্রুত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে শহরকে বাসযোগ্য করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কে কাদা ও আবর্জনার স্তূপ
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, লামা বাজারের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলিতে বন্যার রেখে যাওয়া কাদা, পলিমাটি, প্লাস্টিক বর্জ্য, গৃহস্থালি আবর্জনা ও পচা উচ্ছিষ্টের স্তূপ জমে আছে। পানি অনেকটাই নেমে গেলেও অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। ব্যবসায়ী ও পথচারীরা কাদা মাড়িয়ে চলাচল করছেন। অনেক দোকানদারকে দোকানের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও আবর্জনা পরিষ্কার করে ব্যবসা চালুর চেষ্টা করতে দেখা যায়।
জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে
সড়কে জমে থাকা আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ না হলে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যার পানিতে দোকানের মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার কাদা ও ময়লার কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে পারছেন না। দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক করা কঠিন হবে।
ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে হতাহত
উল্লেখ্য, টানা কয়েক দিনের ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লামা উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। একই সময়ে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া ও পাগলীর ঝিরি এলাকায় পাহাড়ধসে শিশুসহ দুই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
এ বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, "বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পৌর শহরে জমে থাকা কাদা ও আবর্জনা দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে জনজীবন স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।"



