রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ির ফারুয়া, বরকল ও জুরাছড়ির নিম্নাঞ্চলে।
আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা বলেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও ৮টি ইউনিয়নের প্রায় সব স্থান উজানের পানিতে ডুবে আছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যায় দুর্গতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের রান্না খাবার ও শুকনো খাবার (চাল, ডাল, চিনি, চিড়া) বিতরণ করা হচ্ছে।
গৃহপালিত পশু ও ত্রাণ সংকট
অনেকেই গৃহপালিত পশু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। তবে এখনও অনেক স্থানে ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে।
সাজেকে আটকা পর্যটকদের ফেরত
টানা বর্ষণের কারণে যোগাযোগের একমাত্র সড়কে পানি ওঠায় সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফিরতে শুরু করেছেন। রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে দেড়শো পর্যটক সাজেক ছেড়েছিল। শুক্রবার সকালে বাকি ৩১১ পর্যটক সেনা সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পাহাড় ধস
রাঙামাটির শুকুরছড়ি এলাকায় মাটি সরে ৩৩ কেভি লাইনের দুটি পিলার হেলে যাওয়ায় রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পুরো শহর বিদ্যুৎবিহীন ছিল। রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, জেলায় বিভিন্ন স্থানে ১০৪টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পর্যন্ত জেলার সাড়ে চার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং আরও ১২৯ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।



