দেশের চার বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে, যার ফলে ওই সব বিভাগে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বুধবার (৮ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তিন দিন পর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রায় তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে এবং আগামী শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে গেছে। বৃষ্টিতে আরও কিছু নদীর পানি বেড়ে যেতে পারে।
বন্যার পূর্বাভাস
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, 'যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা তিন দিন থাকতে পারে। এর পর থেকে, অর্থাৎ শনিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।'
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদীর পানিই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উজান এলাকায়ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতীয় উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
নদীর পানির অবস্থা
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে সুরমা-কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার, ধরলাসহ কয়েকটি নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



