বন্যায় বৃদ্ধের মৃত্যু, মনু নদীর বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত
বন্যায় বৃদ্ধের মৃত্যু, মনু নদীর বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত

মৌলভীবাজারের রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ ভেঙে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ঘটনায় রাজনগরের আকুয়া গ্রামের আসরাফ আলী আসই (৭২) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

বাঁধ ভাঙনের বিবরণ

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ও রাত ১২টায় রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও আকুয়া এলাকায় মনু বাঁধের সাড়ে ৩০০ ফুট অংশ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে আকুয়া, সৈয়দনগর, আদিনাবাদ টগরপুর, কোনাগাঁও, শ্বাসমহল, বকশিকুনা, মহলাল, প্রেমনগর, মালিকোনা, ভাঙারহাট বাজার, ঘয়গড়, ডলা, হংসখলা, গবিন্দপাটি, টুপির মহল ও হরিপাশা বাজারসহ কয়েকটি গ্রাম বন্যাক্রান্ত হয়।

প্রাণহানি ও উদ্ধার

বৃহস্পতিবার রাতে বন্যার পানিতে টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আসরাফ আলী আসই (৭২) নিখোঁজ হন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় স্থানীয়রা তার লাশ পানির স্রোতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বানবাসী মানুষ হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বাঁধের ওপর বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, "বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের জন্য নৌকা ও স্পিডবোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।" তিনি সর্বস্তরের জনগণকে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কুলাউড়ায় বাঁধ ভাঙন

কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া গ্রামে মনু নদীর আরেকটি বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে। এতে শিকড়িয়া, রাজাপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে বহু কৃষিজমি, সড়ক ও কালভার্ট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএসএফের বাধার কারণে এই বাঁধ মেরামত করা যাচ্ছে না। ফলে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাঙন বেড়ে দ্রুত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে।

কুলাউড়া ইউএনও'র বক্তব্য

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, "খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই সীমান্তের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। গত ২৪ বছর ধরে এই বাঁধে ভাঙন রয়েছে। বিজিবি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।" তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করার কথাও জানান।

পানির অবস্থা

শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মনু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে কুলাউড়া রেলওয়ে ব্রিজের কাছে পানি এখনও বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।