দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা: ৩৫ প্রাণহানি, লাখ লাখ মানুষ অসহায়
দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা: ৩৫ প্রাণহানি

দক্ষিণ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা টানা ভারী বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। একের পর এক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে, প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। লাখ লাখ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন।

বৃষ্টির রেকর্ড ও বন্যার বিস্তার

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে অর্ধশত বছরের রেকর্ড ভেঙে গেছে বৃষ্টিপাতের। টানা এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি পড়ছে, আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, খেতখামার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, হাসপাতাল-ক্লিনিক। বান্দরবানে অনেক মানুষ পাহাড়ের বনে আশ্রয় নিয়েছেন। এক পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর মা আকুতি জানিয়েছেন, 'আমরা না খেয়ে থাকতে পারব, শিশুদের জন্য একটু ভাত চাই।'

প্রাণহানি ও পাহাড়ধস

পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে বেশ কয়েকটি শিশুসহ ৩৫ জনের মতো প্রাণহানি ঘটেছে। কবরের ভেতরেও পানি ঢুকে লাশ ভেসে উঠেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন্যার কারণ ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ

আবহাওয়াবিদ ও গবেষকদের মতে, লঘুচাপের কারণে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল জলীয়বাষ্পসমৃদ্ধ মৌসুমি বায়ু জমে ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তে অতিবৃষ্টি ঘটাচ্ছে। তবে এই বন্যা শুধু প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্টও। পাহাড়ে অপরিকল্পিত বনায়ন, বন উজাড়, কৃষিবান্ধবহীন চাষ, পাথর পাচার, অপরিকল্পিত উন্নয়ন—এসব কারণে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কমেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন বানাতে কাটা হয়েছে কয়েক লাখ গাছ ও ২৬ কিলোমিটার পাহাড়। নদীগুলো—মাতামুহুরী, সাঙ্গু, হালদা, কর্ণফুলী, ফেনী—দূষণ ও দখলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনস্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন চ্যালেঞ্জ

বন্যায় ঘরবাড়ি ও নলকূপ ডুবে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা-পরবর্তী জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় চাপ তৈরি হবে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত, শিক্ষার্থীদের বইখাতা সরবরাহ, কৃষক-খামারিদের সহায়তা—এসব নিয়ে ভাবতে হবে।

সরকারের পদক্ষেপ ও সমালোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করছেন, বন্যা নিয়ে দেশের মানুষের তেমন মনোযোগ নেই, মিডিয়া কাভারেজ কম। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রমসহ ১০ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সমন্বয়হীনতা ও ঘাটতি রয়ে গেছে বলে সমালোচনা রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হবে।