চকরিয়ায় নদীভাঙনে কফিলের বাড়ি বিলীন, পরিবারটি দিশেহারা
চকরিয়ায় নদীভাঙনে কফিলের বাড়ি বিলীন

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়ায় মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে কফিল উদ্দিনের (৪৫) বসতঘরটি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অতি ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তাঁর বাড়িটি নদীতে হেলে পড়েছে। ছয় সদস্যের পরিবারটি এখন বাড়ির পাশের একটি দোকানের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছে।

পরিবারের দুরবস্থা

কফিল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, 'চোখের সামনে ঘরটা নদীতে চলে যাচ্ছে। থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে কার দরজায় দাঁড়াব, কোথায় যাব, সেটাও জানি না।' তিনি জানান, করোনার সময় বহু কষ্টের টাকা দিয়ে ঘরটি তুলেছিলেন। এখন সেটি নদীতে বিলীন হতে চলেছে। তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'করোনার সময় অনেক কষ্ট করে স্বামী-স্ত্রী মিলে এই ঘর তুলেছি। ২০২৩ সালের বন্যায় ঘরের একটি কক্ষ নদীতে ধসে পড়েছিল। এবারের বন্যায় পুরো ঘরটিই নদী টেনে নিয়ে যাচ্ছে।'

এলাকার অন্যান্য ক্ষতি

শুধু কফিল উদ্দিনের বাড়ি নয়, তাঁর এলাকায় অন্তত ১২টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে এবং আরও ২৫টি বাড়ির উঠান নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি কমার পর নদীর পানি কিছুটা কমেছে, কিন্তু ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট। অনেক ঘরের নিচে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও ইট খুলে পড়েছে, আবার কোথাও মেঝে দেবে যাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

কফিলের পাশের বাড়ির মিনহাজ উদ্দিনের স্ত্রী শাহিন আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, '১০ থেকে ১৫ দিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু বালুর বস্তা ফেলেছিল, কিন্তু সেগুলো বসতবাড়ির কিনারায় না ফেলে নদীর মাঝখানে ফেলা হয়েছে। ভাঙন রোধে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।' ফাতেমা বেগম (৪৫) জানান, ২৭ বছর আগে বিয়ের পর এ এলাকায় এসে তিনি দেখেছিলেন মাতামুহুরী নদী বর্তমান অবস্থান থেকে অন্তত ২৫০ ফুট দূরে ছিল। নদীর গতিপথ বদলে পশ্চিম পাড় ভাঙতে ভাঙতে এখন লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

স্থানীয় কাউন্সিলর মুজিবুল হক বলেন, 'গত ১০ থেকে ১৫ বছরে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এ কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার আতঙ্কে দিন কাটায়।' কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'ভাঙন রোধে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। জিও ব্যাগের বদলে কংক্রিটের ব্লক দিতে যতটুকু ঢাল দরকার, ততটুকু ঢাল সেখানে নেই। তবে কংক্রিটের ব্লক দেওয়ার বিষয়টি আমাদের ভাবনায় রয়েছে।'