চট্টগ্রামের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে হাজারো মানুষের বসবাস অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন মাইকিং করে বসবাসকারীদের সরানোর চেষ্টা করলেও তারা সরে যেতে রাজি নয়। 'মরব তবুও বসতি ছাড়ব না'—এমন মনোভাব নিয়ে তারা পাহাড়ে থেকে যাচ্ছে।
প্রশাসনের প্রচারণা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
গত সোমবার থেকে জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোতে মাইকিংসহ নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ চলছে, যার কারণে মাটি কাটা অংশে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও মানুষ পরিবার নিয়ে বসতি ছাড়ছে না।
উচ্ছেদের পর পুনর্বাসন না হলে লুকোচুরি চলবে
দিনে উচ্ছেদ করলেও রাতে আবার বসতি গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ে বসতি নিয়ে এই লুকোচুরি খেলা চলছে। ছিন্নমূল এসব মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নেই। নদীভাঙন ও ভূমিহীনতার কারণে ছিন্নমূলের সংখ্যা বেড়েছে। ভূমিহীন মানুষগুলো শহরে ও জেলার পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে বসতি গড়ে তুলছে।
জেলা প্রশাসনের মতামত: স্থায়ী পুনর্বাসন জরুরি
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, স্থায়ী পুনর্বাসন করা না গেলে পাহাড়ে অবৈধ বসতি ঠেকানো যাবে না। ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারি খাস জমি বণ্টনের মাধ্যমে অবৈধ বসতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যদিকে, ভূমিহীন মানুষগুলোকে ব্যবহার করে কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সরকারি পাহাড় দখল করে রেখেছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে ২৭০ জন, কিন্তু সংখ্যা আরও বেশি
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছেড়ে নগরীর চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২৭০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাহাড় ধসের ইতিহাস ও ব্যবস্থাপনা কমিটি
চট্টগ্রামে প্রথম ২০০৭ সালের ১১ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ১২৭ জন মারা যায়। এরপর আরও একাধিকবার পাহাড় ধসে অসংখ্য নারী-পুরুষ-শিশু প্রাণ হারিয়েছে। চট্টগ্রামে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। কমিটি বিভিন্ন সময় পাহাড়ে অবৈধ বসতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিলেও কার্যকর সুফল মিলছে না।
পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেও নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ
পাহাড়ে অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় ১৭টি পাহাড়ের মধ্যে ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ৭টি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার। ইতিপূর্বে সরকারি ও বেসরকারি এসব পাহাড়ে ৮৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অবৈধ বসতি আরও কয়েকগুণ বেশি।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
নগরীতে পাহাড়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে লালখান বাজার, খুলশী, পাহাড়তলী, আকবর শাহ, বায়েজিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায়। প্রতি বছর এসব এলাকায় বসতিগুলোতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে।



