মালয়েশিয়ার সান্দাকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: প্রায় ২০০ ঘর পুড়ে ছাই, শত শত পরিবার গৃহহীন
মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সান্দাকান জেলার কামপুং বাহাগিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পানির ওপর নির্মিত প্রায় ২০০টি অস্থায়ী বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। শনিবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শত শত বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ও উদ্ধার কার্যক্রম
ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টা ৩২ মিনিটে জরুরি কল পাওয়ার পর মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে প্রথম দমকল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সান্দাকান জোনের অপারেশন কমান্ডার জাসরি আব জাল জানান, প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে থাকা বসতিগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে সান্দাকান ও কিনাবাতাঙ্গান ফায়ার স্টেশন থেকে ৩৫ জন দমকল কর্মী অংশ নেন। তাদের সঙ্গে সহায়তা করে সাবাহ বিদ্যুৎ সংস্থা এবং মালয়েশিয়ার সিভিল ডিফেন্স বাহিনী। দমকল বাহিনী জানায়, সরু পথের কারণে ঘটনাস্থলে প্রবেশে সমস্যা হয় এবং ভাটার সময় খোলা পানির উৎস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রবল বাতাস ও ঘনবসতিপূর্ণ ঘরবাড়ির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্যোগ ঘোষণা ও আশ্রয়কেন্দ্র চালু
বার্নামা সংবাদ জানিয়েছে, সান্দাকান জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ওয়ালটার কেনসন ঘটনাটিকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রোববার সকাল ৭টা থেকে বাটু সাপি এলাকায় অবস্থিত পিপিআর হল-এ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে ৮৯টি পরিবারের মোট ৪৪৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ঘরবাড়ি এখন আর বসবাসের উপযোগী নেই।
সরকারি পদক্ষেপ ও সমন্বয়
এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সমন্বয় করছে। উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার সাবাহ রাজ্য সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মৌলিক সহায়তা এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দুর্গতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংসের খবর পেয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও চলমান তদন্ত
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৯ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সান্দাকান জেলা পুলিশ প্রধান জর্জ আব্দ রাকমান জানান, রাত ১টা ৩০ মিনিটে তারা ঘটনার খবর পান এবং সকাল ৪টার দিকে এলাকাটিকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
আগুন নেভাতে ট্যাংকার লরি এবং পাশের একটি কারখানার উচ্চচাপের পানির উৎস ব্যবহার করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং দমকলের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করা দলগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে নিবন্ধনসহ প্রাথমিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।



