বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু: হাওরে ধান কাটার সময় নিহত কৃষক ও শিক্ষার্থী
দেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই হাওরে ধান কাটার সময় কিংবা খোলা স্থানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন। একই ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি গবাদিপশুরও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা গ্রামীণ জনপদে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হবিগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ঘটনা
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষক বজ্রপাতে নিহত হন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের মমিনা হাওড়ে এ ঘটনা ঘটে। একইভাবে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মো. মমতাজ আলী খান (৭০) নামে আরেক কৃষক মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মারা যান বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জের ধারাবাহিক বজ্রপাত
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নুর জামাল (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং তোফাজ্জল হোসেন নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হাওরে ধান কাটার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই দিনে জামালগঞ্জের ভীমখালী ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুটি গাভীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
এর আগে শুক্রবার সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় আরও পাঁচজন নিহত হন বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও দিরাই উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক কলেজ শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন কৃষিশ্রমিক, যারা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হন। এসব ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও পরিস্থিতি
পুলিশ জানিয়েছে, অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সময়, যখন খোলা হাওরে কাজ করছিলেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বৈশাখের শুরুতেই এমন ধারাবাহিক বজ্রপাতের ঘটনায় গ্রামীণ জনপদে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই সময়ে খোলা স্থানে কাজ করার সময় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।



