ব্যস্ত সড়কে আলপনা আঁকতে গিয়ে পিকআপের চাপায় নিহত মহাম্মদ জুয়েল
নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত সড়কে ঝুঁকি নিয়ে আলপনা আঁকছিলেন চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কয়েকজন তরুণ। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেন মহাম্মদ জুয়েল (৩৫)। তিনি যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আলপনার কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল এবং ‘শুভ ১৪৩৩’ লেখাও সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ দ্রুতগামী একটি বেপরোয়া পিকআপ ভ্যান এসে তাঁকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান জুয়েল।
ঘটনার বিবরণ
আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কমলারদিঘি কালীবাড়ির সামনে সড়কের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাপ্তাই সড়কের এই স্থানে আলপনা করতে গিয়ে নিহত হন মহাম্মদ জুয়েল। তিনি নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াপাড়ার কালীবাড়ির বাসিন্দা এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম নুরুচ্ছফা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, এলাকার তরুণ ও যুবকেরা মিলে বর্ষবরণের নানা চিত্র আঁকছিলেন। জুয়েল সেখানে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের কাজ করছিলেন। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান এসে তাঁকে চাপা দেয়। এ ঘটনায় জুয়েলের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
পুলিশের বক্তব্য
পিকআপের চাপায় ঘটনাস্থলেই জুয়েলের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন ভূঁইয়া বলেন, ‘তরুণেরা যখন সড়কে আলপনা আঁকছিলেন, আমরা তাঁদের নিষেধ করেছিলাম। অনুরোধ করেছিলাম, যেন সরে যান। এটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তবু তাঁরা আঁকছিলেন। একপর্যায়ে একটি পিকআপ ভ্যান জুয়েলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমরা লাশ উদ্ধার করলেও পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের আবেদন করেছে।’
মৃত্যুর সংবাদ শুনে জুয়েলের পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। স্বজনেরা এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। এই দুর্ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়ানোর গুরুত্বকে সামনে এনেছে।



