বরগুনার আমতলীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই নিহত, তিনজন গুরুতর আহত
আমতলীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই নিহত

বরগুনার আমতলীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই নিহত, তিনজন গুরুতর আহত

বরগুনার আমতলী উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সামনে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় একটি দ্রুতগামী ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চারজন যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা মহিষকাটা থেকে আমতলীর দিকে যাচ্ছিল। পথে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশার যাত্রী মিরাজুল ইসলাম শাওন (২০), অটোচালক ফাহাদ (২১), জসিম সিকদার (৪৫), তুহিন (২২) ও বেল্লাল মুসুল্লী (৩৫) গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক ডা. পপি হালদার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে মিরাজুল ইসলাম শাওন ও বেল্লাল মুসুল্লী মারা যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতদের পরিচয় ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

নিহত মিরাজুল ইসলাম শাওনের বাড়ি আমতলী উপজেলার উত্তর সোনাখালী গ্রামে। তার বাবার নাম গাজী শাহজাদা। অপর নিহত বেল্লাল মুসুল্লীর বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মাইঠভাঙ্গা গ্রামে। তার বাবার নাম হাসেম মুসুল্লী।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পপি হালদার বলেন, "আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"

আমতলী থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম জানান, "আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার পথে দুইজন মারা গেছেন। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।" দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা বাদুরা বাজার এলাকায় তা আটক করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে গাড়ির দ্রুতগতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তারা সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও দায়িত্বশীল ড্রাইভিং নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় আহত তিনজন বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ট্রাক চালককে গ্রেপ্তারের জন্য খোঁজাখুঁজি চলছে।