কালবৈশাখীতে সুন্দরবনে নিখোঁজ নয় মৌয়ালের সাতজন উদ্ধার, বাকি দুইজন এখনো অনুপস্থিত
সুন্দরবনে কালবৈশাখীতে নিখোঁজ মৌয়ালদের উদ্ধার, সাতজন পাওয়া গেছে

কালবৈশাখীর কবলে সুন্দরবনে নিখোঁজ মৌয়ালদের উদ্ধার অভিযান

সুন্দরবনের ছায়া নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া চার মৌয়ালসহ মোট সাতজনকে বন বিভাগের সদস্যরা উদ্ধার করেছেন। গতকাল সোমবার গহিন অরণ্য থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো দুইজন মৌয়াল নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের খোঁজে বন বিভাগের টহল কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

উদ্ধার হওয়া মৌয়ালদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

উদ্ধার হওয়া মৌয়ালেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম বিড়ালাক্ষী গ্রামের রাশিদুল ইসলাম (৩৬), বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের শুকুর আলী (৩৮), কাশিমাড়ি গ্রামের আবদুল লতিফ মোল্লা (৬৪) ও তৈবুর রহমান (২৩)। রাশিদুল ইসলাম ও শুকুর আলী সরদার জানান, ১ এপ্রিল তারা পাঁচজন বন বিভাগের পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। মধু সংগ্রহ শেষে ১০ এপ্রিল লোকালয়ে ফেরার পথে রায়মঙ্গল নদীর মোহনায় হঠাৎ কালবৈশাখীর কবলে পড়েন।

এতে তাদের নৌকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল স্রোতে ভেসে ভারতের সীমান্তের দিকে চলে যায়। দলের সদস্য শওকত গাজীকে (৩৯) ভারতীয় বন বিভাগের সদস্যরা আটক করেন। সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে চারজন দুই দিন পায়ে হেঁটে আবার একত্র হন। দেশে ফিরতে না পেরে একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করে নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন বিভাগের টহল ও উদ্ধার কার্যক্রম

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, একই সময়ে অপর একটি মৌয়াল দলের আট সদস্য ১ এপ্রিল সুন্দরবনে প্রবেশ করে। ৬ এপ্রিল রাতে কাঁচিকাটা এলাকায় আকস্মিক ঝড়ে তাদের নৌকা ডুবে যায়। এ সময় চারজন ভেসে গিয়ে পরদিন হলদেবুনিয়া টহল ফাঁড়িতে পৌঁছালে তাদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি চারজন নিখোঁজ ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তী সময়ে গতকাল সোমবার রায়মঙ্গল সীমান্ত নদী এলাকা থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন মৌয়াল হলেন শ্যামনগর উপজেলার ওলিউর রহমান, ইকরামুল কবির ও মিকাইল হোসেন। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একই গ্রামের আকবর। বন বিভাগের হলদেবুনিয়া টহল ফাঁড়ির সদস্যরা সোমবার সকাল আটটার দিকে ছায়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় বনের ভেতর থেকে কয়েকজনের ডাক শুনে এগিয়ে গিয়ে চারজন মৌয়ালকে উদ্ধার করেন।

বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

উদ্ধার হওয়া মৌয়ালদের আজ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ দুইজন মৌয়ালের খোঁজে টহল ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনা সুন্দরবনে মৌয়ালদের নিরাপত্তা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য বন বিভাগের প্রশংসা করেছেন।