সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বজ্রপাতে বারকি শ্রমিকের মৃত্যু
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে এক বারকি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবুল হাসান (২৪) নামের এই যুবক স্থানীয় জাদুকাটা নদীতে বালি উত্তোলনের কাজ করতেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সীমান্তবর্তী বড়গোপ টিলার নিচে নদীর পশ্চিম তীর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
আবুল হাসান হলহলিয়া চরগাঁও গ্রামের জহুর আলীর ছেলে। পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোররাতে দুই সহোদরকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তারা জাদুকাটা নদীতে বারকি নৌকা ব্যবহার করে বালি উত্তোলনের কাজ করছিলেন। সন্ধ্যায় আকাশের অবস্থা খারাপ দেখে আবুল হাসান নিজে নৌকা তালাবদ্ধ করে বাড়ি ফেরার কথা বলে দুই সহোদরকে নদীর চর থেকে চলে যেতে বলেন।
প্রথমদিকে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন যে ঝড়বৃষ্টির কারণে আবুল হাসানের বাড়ি ফেরা হয়নি। তবে পরে জানা যায়, ওই রাতেই বজ্রপাতে তার মৃত্যু ঘটে। মঙ্গলবার সকালে নদী তীরে যাতায়াতকারী মানুষজন বালি চরে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এরপর পরিবারের লোকজন গিয়ে আবুল হাসানের লাশ শনাক্ত করেন।
পুলিশের বক্তব্য
তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লাশ উদ্ধারের পর প্রাথমিক তদন্তে বজ্রপাতের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। পুলিশ এখন মামলা দায়ের ও বিস্তারিত তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বারকি শ্রমিকরা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন, যা তাদের জীবন বিপন্ন করে তুলছে। আবুল হাসানের পরিবার এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এলাকাবাসী দাবি করছেন যে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে সরকারি পর্যায়ে সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।
এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাহিরপুরের মতো দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বজ্রপাত একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ সৃষ্টি করছে।



