দিনাজপুরে শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি, হাজার হাজার হেক্টর ফসল ও শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
দিনাজপুরে শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়ে ফসল ও ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত

দিনাজপুরে শিলাবৃষ্টিসহ মৌসুমী ঝড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

দিনাজপুর জেলার চারটি উপজেলায় একটানা শিলাবৃষ্টিসহ মৌসুমী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই ঝড়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, পাশাপাশি শত শত ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সদর, ফুলবাড়ী, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর উপজেলায় মোট ৪,৯৬৬ হেক্টর কৃষিজমি এই দুর্যোগের প্রভাবে পড়েছে।

ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও কৃষকদের সংকট

বোরো ধান, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও আমসহ প্রধান ফসলগুলো এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে পুরো গ্রামের ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় টিনের ছাদবিশিষ্ট ঘরগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক বাড়িই এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ধান ও ভুট্টার ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আর তাল ও নারকেল গাছও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৬,৩০০ জনেরও বেশি কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব কৃষকের ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের জন্য পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগাম জাতের আউশ ধান চাষের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা ও মূল্যায়ন

ঝড়ের পরপরই ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ হাছান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ হাছান বলেছেন, "আমরা বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রাথমিক তালিকা এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ করছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যারা তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়েছেন, তাদের সহায়তা প্রদান সমন্বয় করা হবে।"

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই শিলাবৃষ্টির তীব্রতা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ছিল, যা ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। কর্তৃপক্ষ এখন সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।

কৃষকদের ঋণের বোঝা ও অর্থনৈতিক চাপ

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, অনেকে ফসল চাষের জন্য ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্র থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। এখন এই ধ্বংসযজ্ঞের পর তারা কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এলুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল নবিউল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের বিখ্যাত আম ও লিচুর বাগানগুলো, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির পর্যায়ে ছিল, সেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অবস্থায় চাষিদের জন্য ব্যাপক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন, যারা তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিচ্ছেন।

ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ নির্ধারণের জন্য মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দিনাজপুর জেলার এই চার উপজেলার কৃষকরা এখন দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।