গাজীপুরের শ্রীপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
শ্রীপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, ক্ষয়ক্ষতি

গাজীপুরের শ্রীপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গত সোমবার দিবাগত রাতে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ছাতিরবাজারে নিজের দোকানের চালের নিচে চাপা পড়ে সিরাজুল ইসলাম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪০০ জায়গায় গাছ উপড়ে গেছে, বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বৃদ্ধের মৃত্যুর করুণ ঘটনা

মারা যাওয়া সিরাজুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার কুনরা গ্রামের গাজী রহমানের ছেলে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ছাতিরবাজারে বাঁশের চাটাই ও সিলিং তৈরির ব্যবসা করছিলেন। ঝড়ের সময় তিনি দোকানের ভেতর অবস্থান করছিলেন, যেটি বাঁশ-বেতের তৈরি ছিল। বাতাসের তোড়ে ঘরটি ধসে পড়লে তিনি চালের নিচে চাপা পড়েন। পরদিন ভোরে স্থানীয় লোকজন ধসে পড়া ঘর দেখে এগিয়ে গিয়ে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছেলে মো. শাহিন জানান, তাঁর বাবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই রাত্রিযাপন করতেন। ঝড়ের সময় ঘরটি ধসে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানা যায়নি। সকালে ধসে পড়া ঘর দেখে লোকজন উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। শ্রীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্চয় সাহা বলেন, বৃদ্ধের মৃত্যুর বিষয়টি থানায় কেউ জানায়নি এবং তারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

গতকাল রাতের ঝড়ে শ্রীপুর উপজেলার শিরিশগুড়ি, মাওনা, চকপাড়া, মাওনা উত্তরপাড়া, ছাতিরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় অনেক গাছপালা উপড়ে গেছে, কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ধান, ভুট্টা, সবজি, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলার শিমলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাঈম সিকদার জানান, তাঁর কয়েকটি লিচুগাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল, কিন্তু ঝড়ে চায়না থ্রি লিচুগাছ, আমড়া, জলপাইসহ প্রচুর ফল গাছ ভেঙে গেছে। চকপাড়া গ্রামের আনোয়ার হাসান বলেন, ঝড়ে তাঁর শসাখেত মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং বাড়ির কয়েকটি কাঁঠাল গাছেরও ক্ষতি হয়েছে। মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা সজীব মৃধা বলেন, ঝড়ে তাঁর ঘরের চালা উড়ে গেছে।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা

ঝড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগের বিভিন্ন পয়েন্ট ক্ষতি হওয়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এসব সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ করছিলেন। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২–এর মাওনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শান্তনু রায় জানান, রাতের ঝড়ে মাওনা পল্লী বিদ্যুতের আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৪০০ জায়গায় গাছ উপড়ে গেছে, ১০০ জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগের তার ছিঁড়ে গেছে, ২০টি খুঁটির ফিটিংস ভেঙে গেছে এবং ছয়টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই দুর্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।