ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মামা-ভাগ্নের মর্মান্তিক মৃত্যু
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার বাগানমাঠ গ্রামে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের মামা ও ভাগ্নে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে। নিহতরা হলেন রফিকুল ইসলাম (৫১) এবং তার ভাগ্নে বাবু (৩০), যারা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী জোবায়ের হোসেনের বর্ণনা অনুযায়ী, মামা-ভাগ্নে দুজন ধানের মঠে কাজ করতে যান। সেখানে শ্যালো মেশিনের একটি ছেঁড়া তার পড়েছিল, যা অজান্তেই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রথমে রফিকুল ইসলাম ওই ছেঁড়া তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গিয়ে ভাগ্নে বাবুও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন, ফলে দুজনই ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের দেহ উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়, এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের প্রতিক্রিয়া
মহেশপুর থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানান, মামা-ভাগ্নে মাঠে কাজ করার সময় বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার ওমর আলি বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠিয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, ছেঁড়া তার জোড়া দিতে গিয়েই তারা বিদ্যুতায়িত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
দুর্ঘটনার প্রভাব ও সতর্কতা
এই ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে কৃষি কাজের সময় শ্যালো মেশিন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। স্থানীয়রা এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত পরিদর্শন ও মেরামত কাজ ত্বরান্বিত করা হবে।



