ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মামা-ভাগনের মৃত্যু
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় একটি মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুর্ঘটনায় মামা ও ভাগনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বাগানমাঠ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকসাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মৃত ব্যক্তিরা হলেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগানমাঠ গ্রামের রফিকুল ইসলাম সরকার (৪৫) ও একই গ্রামের নুর আলম (৩৫)। তাঁরা সম্পর্কে মামা-ভাগনে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদার বর্ণনা অনুযায়ী, রফিকুল ইসলাম দুপুরে নিজের ধানের জমিতে কীটনাশক ছিটাতে যাচ্ছিলেন।
এই সময় মাঠে অবস্থিত একটি বৈদ্যুতিক মোটরের খোলা তার ঝুলে থাকায়, অসাবধানতাবশত তা তাঁর গায়ে লাগে এবং তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পাশের জমিতে কাজ করা তাঁর ভাগনে নুর আলম ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে দৌড়ে এসে মামাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন। দুর্ভাগ্যবশত, ঘটনাস্থলেই উভয়ের মৃত্যু হয়, যা পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি, বিশেষত কৃষি কাজের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে গ্রামবাসীরা বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি কাজের সময় নিম্নলিখিত সতর্কতা মেনে চলা উচিত:
- বৈদ্যুতিক তার ও মোটর নিয়মিত পরীক্ষা করা
- কাজের সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা
- দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা
এই দুর্ঘটনা কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়ানো যায়।



