চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ইটভাটার গর্তে পড়ে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ইটভাটার জন্য খনন করা একটি গর্তে পড়ে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ মার্চ) সকালে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব-ফটিকছড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
শিশুদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
মৃত শিশু দুজন হলো গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে সাকি আকতার (১০) এবং জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা আকতার (৯)। তারা দুজনই ভুজপুর আল মাহাদুল ইসলাম বালক-বালিকা মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের ফসলি জমিতে অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে বিশাল একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টির পানি জমে সেটি ডোবায় পরিণত হয়। ওই ডোবার পাশে খেলছিল ফারজানা, সানজিদাসহ তিন শিশু। খেলার একপর্যায়ে সাকি ও সানজিদা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অপর শিশুটি দৌড়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
পরিবারের সদস্যরা এসে পানিতে তল্লাশি করে দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটার মাটি খননে করা গর্তগুলোই মূলত এই দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ। ইটভাটা মালিকেরা যে যার মতো করে মাটি খননের জন্য কোনো আইনকেই তারা তোয়াক্কা করেন না। তাদের দাবি, এই দুই শিশুর মৃত্যুর দায় কে নেবে? এ দায় রাষ্ট্র কখনো এড়াতে পারেন না।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষে লাশ বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। এছাড়া তারা কোনো ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা গ্রামবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা অবিলম্বে অবৈধ মাটি খনন বন্ধ এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।



