দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: তদন্তে নিরাপত্তা ঘাটতি ও যান্ত্রিক ত্রুটির প্রমাণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: তদন্তে নিরাপত্তা ঘাটতি ও যান্ত্রিক ত্রুটির প্রমাণ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় তদন্ত কমিটি ঘাটের নিরাপত্তাব্যবস্থার মারাত্মক ঘাটতি, ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলা এবং বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা দুর্ঘটনার পেছনের মূল কারণগুলো উদ্ঘাটন করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর ও প্রক্রিয়া

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে। বুধবার (১ এপ্রিল) তিনি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে ঘাটের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি, ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলা এবং বাসের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী ছিল। তদন্ত কমিটির প্রধান উছেন মে বলেন, ‘আমরা প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্যসহ স্থানীয়দের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। তদন্ত সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। আমরা দুর্ঘটনার কারণ ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে বেশ কিছু কার্যকর সুপারিশ প্রস্তাব করেছি।’ তিনি এর বেশি কোনো তথ্য প্রকাশ করতে চাননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ

জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি আমরা হাতে পেয়েছি। এই প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বরাবর প্রেরণ করা হবে। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এই ঘোষণা দুর্ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি

গত ২৫ মার্চ বিকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। এই ভয়াবহ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের সবার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন রয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়ার চার জন, ঝিনাইদহের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, দিনাজপুরের একজন এবং ঢাকার আশুলিয়ার একজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় পারিবারিক ট্র্যাজেডিও দেখা গেছে—কোনো পরিবারে মা-ছেলে ও নাতির মৃত্যু হয়েছে, কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, আবার কোনো পরিবারে মা-মেয়ে ও মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

তদন্ত কমিটি গঠন ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

দুর্ঘটনার তদন্ত ও অনুসন্ধানের জন্য ওই দিন রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্যসচিব করা হয়। এই কমিটি এখন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া ও সুপারিশ বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করবে।