হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত: জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় একটি তেলবাহী ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত নয়টার দিকে উপজেলার মনতলা রেল স্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যাপক ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনটি মনতলা স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের অন্তত ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইন থেকে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি তেল বেরিয়ে পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি, সড়ক ও নিকটস্থ খালে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষি জমির জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের তেল সংগ্রহের হিড়িক
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেল সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শত শত মানুষ বালতি, ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকে সরাসরি লাইনচ্যুত বগির মুখ খুলে তেল বের করার চেষ্টা করছেন। মনতলা এলাকার এক বাসিন্দা এ বিষয়ে বলেন, ‘তেলের যে দাম আর সংকট, তাই সবাই এসে নিচ্ছে। বিপদ হতে পারে জানি, কিন্তু অভাবের বাজারে কেউ মানছে না।’
অগ্নিকাণ্ড ও পরিবেশগত ঝুঁকি
দাহ্য পদার্থ হওয়ায় ঘটনাস্থলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল কৃষি জমি ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা এই দুর্ঘটনায় একটি স্বস্তির বিষয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. মনির মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উদ্ধারকারী ট্রেন আসার পর কাজ শুরু হবে।’ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলাকাটি নিরাপদ ঘোষণা করে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।



