দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: তদন্তে নিরাপত্তা ঘাটতি ও যান্ত্রিক ত্রুটি চিহ্নিত
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: তদন্তে নিরাপত্তা ঘাটতি ও যান্ত্রিক ত্রুটি চিহ্নিত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি ঘাটের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি, পরিচালনার বিশৃঙ্খলা এবং বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি সামনে এনেছে। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর ও ফলাফল

মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে। বুধবার তিনি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পেছনে ঘাটের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি, পরিচালনার বিশৃঙ্খলা এবং বাসের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বেশ কিছু কারণ জড়িত ছিল।

তদন্ত কমিটির প্রধান উছেন মে বলেন, ‘আমরা প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্যসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত সঠিকভাবে করার স্বার্থে আমরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমরা দুর্ঘটনার কারণ ও আগামীতে দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করেছি।’ তিনি এর বেশি কিছু বলতে চাননি, যা তদন্তের গভীরতা নির্দেশ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার বিবরণ ও প্রভাব

গত ২৫ মার্চ বিকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে পদ্মায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সবার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৃতদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন রয়েছেন, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার চার জন, ঝিনাইদহের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, দিনাজপুরের একজন এবং ঢাকার আশুলিয়ার একজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় কোনও পরিবারের মা-ছেলে ও নাতির মৃত্যু হয়েছে, কোনও পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, আবার কোনও পরিবারে মা-মেয়ে, মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা মানবিক ট্র্যাজেডির মাত্রা বাড়িয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন ও আইনি পদক্ষেপ

দুর্ঘটনার তদন্ত অনুসন্ধানে ওই দিন রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে কে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনটি আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বরাবর প্রেরণ করবো। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এই প্রতিবেদনটি দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সুপারিশমালা অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।