কুমিল্লায় মহাসড়কে আট ঘণ্টায় সাত মৃত্যু: চার উপজেলায় ধারাবাহিক দুর্ঘটনা
কুমিল্লায় মহাসড়কে আট ঘণ্টায় সাত মৃত্যু

কুমিল্লায় মহাসড়কে আট ঘণ্টায় সাত মৃত্যু: চার উপজেলায় ধারাবাহিক দুর্ঘটনা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বুধবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক ছয়টি দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটেছে দাউদকান্দি, বুড়িচং, চান্দিনা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়, যা সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ভোর চারটার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া এলাকায়। এখানে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়, যাতে অটোরিকশার যাত্রী আবদুল বারেক (৫৩) ও মোস্তফা (৫২) নিহত হন। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার মজুমদার নিশ্চিত করেছেন যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

কাছাকাছি সময়ে বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় দুজন চালক নিহত হন। নিহতরা হলেন কাভার্ড ভ্যান চালক জহিরুল ইসলাম (২৭) ও ট্রাকচালক সোহেল রানা (৩৫)। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিন জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং গাড়ি দুটি থানায় আনা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্কুলছাত্র ও বৃদ্ধার মৃত্যু

সকাল নয়টার দিকে চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকায় একটি লরির চাপায় স্কুলছাত্র ইবনে তাইম (১৫) নিহত হন। তিনি বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূঁইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ জানায়, লরিটি পালিয়ে যাওয়ায় তা জব্দ করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, দুপুর বারোটায় চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় বৃদ্ধা হাজেরা বেগম (৭০) নিহত হন। তিনি সড়ক পারাপারের সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন। মিয়ার বাজার হাইওয়ে থানার ওসি সাহাব উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে কাভার্ড ভ্যান ও তার চালককে আটক করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য ঘটনা ও পুলিশের পদক্ষেপ

ভোর সাড়ে চারটায় চৌদ্দগ্রামের গাংরা এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় কাভার্ড ভ্যান চালক ওমর ফারুক (৩৯) নিহত হন। তার গাড়ি বিকল হওয়ার পর আরেকটি কাভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দেয়। পুলিশ জানায়, মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং চালক পালিয়ে গেছেন।

সর্বমোট এই ছয়টি দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে তিনজন চালক, দুজন অটোরিকশা চালক, একজন স্কুলছাত্র ও একজন পথচারী রয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়েছে বা হবে এবং ঘটনাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনাগুলো সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও গাড়ি চালকদের সচেতনতার অভাবকে উন্মোচিত করেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে।