পদ্মা নদীতে বাসডুবি: পঞ্চম দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান, মৃতের সংখ্যা ২৬
পদ্মা বাসডুবি: পঞ্চম দিনেও উদ্ধার অভিযান চলছে

পদ্মা নদীতে বাসডুবি: পঞ্চম দিনেও চলমান উদ্ধার অভিযান

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা সমন্বিতভাবে তাদের কার্যক্রম চালু করেন, যা অন্যান্য দিনের মতোই নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

গতকালের অভিযান ও বর্তমান অবস্থা

গতকাল শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল, যেখানে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের অবশিষ্ট পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং সন্দেহজনক স্থানগুলোতে চূড়ান্ত অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িকভাবে উদ্ধার কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হলেও, আজ আবারও তা পুনরায় শুরু হয়েছে। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানান, ‘ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মীরা সমন্বিতভাবে অংশ নিচ্ছেন, তবে অভিযান কখন শেষ হবে তা নিশ্চিত নয়।’

দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকৃত মৃতদেহ

গত বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ঘাটে ইউটিলিটি ফেরি ‘হাসনা হেনা’ ভেড়ার সময় বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের দিকে এগিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বুধবার মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় বাসটি টেনে তোলে এবং ১৮ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আরও ৬ জনের মরদেহ পাওয়া যায়, এবং দুর্ঘটনার পরপর ৪ জন যাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ২ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন অন্তর্ভুক্ত। জেলা প্রশাসন বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটির বক্তব্য ও নিখোঁজ প্রসঙ্গ

জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নতুন করে কোনো নিখোঁজের তথ্য নেই, কিন্তু প্রশ্ন দূর করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলমান থাকবে।’ এদিকে, বালিয়াকান্দি উপজেলার মুক্তা আক্তার সোহানা শোভা তাঁর ভাই রিপন শেখের নিখোঁজের কথা জানালেও, প্রশাসন বিস্তারিত অনুসন্ধানে বাসে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি। রিপন শেখ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

উদ্ধার অভিযান কবে নাগাদ শেষ হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে সরকারি সংস্থাগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।