নড়াইলের কালিয়ায় চিত্রা নদীতে নিখোঁজ শিশু আরিয়ার খোঁজে ব্যস্ত স্বজনরা
চিত্রা নদীতে নিখোঁজ শিশু আরিয়ার খোঁজে স্বজনরা

নড়াইলের কালিয়ায় চিত্রা নদীতে নিখোঁজ শিশু আরিয়ার খোঁজে ব্যস্ত স্বজনরা

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মহিষখোলা এলাকায় চিত্রা নদীতে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আরেক শিশু আরিয়া খাতুনের (৭) খোঁজে স্বজনরা ও স্থানীয়রা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে এবং বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিষখোলা গ্রামের চিত্রা নদীর পাড়ে প্রতিবেশী দুই শিশু রাফিয়া খাতুন (৬) ও আরিয়া খাতুনের (৭) বাড়ি। তারা একসঙ্গে বেড়ে ওঠা সমবয়সী বন্ধু ছিল। শনিবার সকাল থেকেই নদীপাড়ে খেলতে যায় তারা। বেলা ১১টার দিকে পরিবারের লোকজন তাদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তাদের সন্ধান মিলছিল না।

এরপর বেলা তিনটার দিকে তাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার সামনে যাদবপুর এলাকায় চিত্রা নদীতে একটি শিশুর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিবার মরদেহটি রাফিয়ার বলে নিশ্চিত করে। মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়। পরে নদীপাড়ে গিয়ে দুই শিশুর জুতা পড়ে থাকতে দেখে স্বজনেরা। এরপর থেকে বিকেল পর্যন্ত নদীতে গিয়ে নিখোঁজ আরিয়াকে খুঁজছেন স্বজনরা, কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি

নড়াইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে খুলনার একটি ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ভোরে তাদের আসার কথা রয়েছে, এলে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয়রা ও পুলিশের সহায়তায় প্রাথমিক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, "নিখোঁজ দুই শিশুর একজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আরেকজনের খোঁজ চলছে এবং আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিত্রা নদীপাড়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও স্বজনরা আরিয়ার দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এই দুর্ঘটনা শিশু নিরাপত্তা ও নদীপাড়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের সমন্বয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।