দৌলতদিয়া বাস দুর্ঘটনা: তদন্ত টিমের পরিদর্শন, নতুন লাশ উদ্ধার নেই
দৌলতদিয়া বাস দুর্ঘটনা: তদন্ত টিমের পরিদর্শন

দৌলতদিয়া বাস দুর্ঘটনা: তদন্ত টিমের পরিদর্শন, নতুন লাশ উদ্ধার নেই

গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনার চতুর্থ দিনে জেলা তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। তবে দুপুর পর্যন্ত নতুন কোনো লাশ উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে।

তদন্ত কমিটির বিস্তারিত কার্যক্রম

তদন্ত কমিটির সদস্যরা দুইটি স্পিডবোটে করে ঘটনাস্থল এবং নদীর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে জানান, "এ ঘটনায় নৌ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের কাজে আজ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলি এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করি।"

পরিদর্শনকালে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার অভিযানের বর্তমান অবস্থা

ঘটনার চতুর্থ দিনে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কর্মীরা ন্যূনতম সন্দেহ দূর করতে ঘাটের পন্টুন সরিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন। ভালোভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করার জন্য ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ডুবুরি দল পন্টুনের নিচের অংশে ভালোভাবে তল্লাশি চালাতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তদন্ত টিমের সদস্য সাথী দাস বলেন, "লাশ উদ্ধারে সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে নিখোঁজ দাবির ভিত্তিতে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"

দুর্ঘটনার পটভূমি ও ক্ষয়ক্ষতি

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বেশ কয়েকজন যাত্রী আগেই বাস থেকে নেমে যান এবং দুর্ঘটনার পর আরও কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। দুর্ঘটনার পর থেকে নদীর তীরে আজও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকলেও নতুন লাশ উদ্ধার না হওয়ায় নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কাজে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।