যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু
যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, যানবাহনের শব্দ ও হর্নের কারণে ট্রেনের আওয়াজ শোনা যায়নি, ফলে যাত্রীরা বিপদ বুঝতে পারেননি।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা বনশ্রী পরিবহনের একটি বাস তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে রেলপথ লাগোয়া মহাসড়কে থামে। বাসের যাত্রীরা তখন রেলপথে বসা বা হাঁটাহাঁটি শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সিরাজগঞ্জগামী ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেন এসে পড়ে, যাতে পাঁচজন নিহত হন।
নিহতদের সঙ্গে থাকা নূর ইসলাম বলেন, “মহাসড়কে প্রচুর যানবাহনের চাপ ছিল। ওই সব যানবাহনের শব্দ ও হর্নের কারণে আমরা ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পাইনি। তা ছাড়া যানবাহনের আলোর কারণে ট্রেনের আলো বোঝা যাচ্ছিল না। ট্রেন একেবারে কাছে আসার পর বোঝা যায়।” তাঁর চোখের সামনেই পাঁচজন কাটা পড়েন।
রেলপথের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংকট
যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশন থেকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগুর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার রেলপথ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশনের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা নেটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকলেও বাকি অংশে মানুষ অবাধে যাতায়াত করতে পারে। স্থানীয় লোকজন জানান, গাড়ি নষ্ট হলে বা থামলে যাত্রীরা প্রায়ই রেলপথে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বা ঘোরাঘুরি করতে যান, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর পূর্ব প্রান্তে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে এই সড়কের পাশেই ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলপথ স্থাপন করা হয়েছে।
নিয়মিত দুর্ঘটনা ও সতর্কতা
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একটি সূত্র জানায়, যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের রেলপথে প্রতি মাসেই ট্রেনে কাটা পড়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মহাসড়ক লাগোয়া রেলপথ হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘনঘন ঘটছে। ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ এলাকায় মানুষ রেলপথে হাঁটাহাঁটি করেন, তাই দুর্ঘটনাও বেশি হয়। আমরা জনসাধারণকে রেলপথে না ওঠার ব্যাপারে স্টেশনের মাইকে প্রচার করে থাকি।”
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, গোহালিয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেতু পার হয়ে আসার পর অনেক যানবাহন থামছে এবং যাত্রীরা রেলপথ পার হচ্ছেন। এ অবস্থায় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



