দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: ২৬ জনের মৃত্যু, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা, ২৬ জন নিহত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: ২৬ জনের মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা এই বাসটি প্রাথমিকভাবে ৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাতে পৌঁছাতে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ জন। দুর্ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সাহায্যে বাসটি টেনে তোলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রী রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২) ও মেয়ে রাফিয়া আক্তার (১২) ছিলেন। রেজাউল করিম বলেন, ‘বাসটি ঘাটে এসে একটি ফেরি ছেড়ে যেতে দেখে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ বাসের ব্রেক ফেল করে এবং চালক নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। মধ্যরাতে বাসটি টেনে তোলার পর আমি নিজেই স্ত্রী ও সন্তানের লাশ শনাক্ত করি।’

চাঁদপুরের এক কলেজ শিক্ষক সাকিব হোসেন, যিনি বাসে যাত্রী ছিলেন, তিনি জানান, ‘বাসটি ঘাটে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর হঠাৎ দ্রুতগতিতে পন্টুনের রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে নদীতে পড়ে যায়। চালক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত

চতুর্থ দিনের উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল সমন্বিতভাবে অংশ নেয়। জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্য এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দাফন সম্পন্নের জন্য প্রতিটি লাশের বিপরীতে ২৫ হাজার টাকার চেকও প্রদান করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

ঘাট কর্মীর সাক্ষ্য

৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন লস্কর আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাসটি হঠাৎ দ্রুতগতিতে পন্টুনের রেলিংয়ে আঘাত করে নদীতে পড়ে যায়। আমি দ্রুত বয়া ও রশি ফেলে ৬-৭ জন যাত্রীকে উদ্ধার করি। আমার জীবনে এমন দুর্ঘটনা আগে দেখিনি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফেরি থেকে গাড়ি আনলোডের সময় এই ঘটনা ঘটে।

এই দুর্ঘটনা দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে, এবং নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও পদক্ষেপের দাবি উঠছে।