রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার মর্মান্তিক মৃত্যু: ঢাকায় চাকরি খুঁজতে গিয়ে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানি
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার মৃত্যু: বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানি

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার মর্মান্তিক মৃত্যু

২০১৩ সালে রানা প্লাজা দূর্ঘটনায় ধ্বসে পড়া বহুতল ভবনের নিচ থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম (৪০)। কিন্তু এবার তার ভাগ্যে নির্মম পরিহাস দেখা দেয়। জীবিকার তাগিদে চাকরির জন্য ঢাকা যাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরীঘাটে বাস দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে, যা একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।

চাকরির সন্ধানে ঢাকায় যাত্রা

নাসিমা বেগম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। স্বামী হারানোর পর জীবিকার তাগিদে তিনি গত ১৯ ফেব্রুয়ারী চাকরির উদ্দেশ্যে ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। এক মাসের চেষ্টার পরও চাকরির ব্যবস্থা না হওয়ায় ঈদ করতে ভাগনীর শ্বশুর বাড়ি ফরিদপুরে যান তারা।

ঈদ শেষে ২৫ মার্চ বিকাল ৫ টায় বাসযোগে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ফেরীঘাট দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেন নাসিমা বেগম, ৮ মাসের অন্তঃসত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, চার বছরের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান এবং আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ। দুর্ঘটনার সময় প্রত্যেকে বাসে অবস্থান করাকালে নিখোঁজ হন সকলে। কিছুক্ষণ পর ভেসে উঠে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচেন শুধুমাত্র আব্দুল আজিজ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মরদেহ উদ্ধার ও পরবর্তী ঘটনা

প্রায় ৬ ঘন্টা পর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নানী, ভাগনি ও নাতী নিহত তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আইনি সব কার্যক্রম শেষ করে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে মরদেহ নিয়ে এম্বুলেন্সযোগে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তার আত্মীয়রা। পথিমধ্যে রাত ৯ টার দিকে কুষ্টিয়া পার হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে লাশবাহী গাড়িটি, যখন চলন্ত গাড়ির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। পরে মেরামত শেষে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায় এবং শুক্রবার দুপুরে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

রানা প্লাজার স্মৃতি ও সহায়তা

জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, রানা প্লাজা দূর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ধ্বসে পড়া বহুতল ভবনের নিচ থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে চাকরির জন্য ঢাকা যাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা তাদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আঃ ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে পরিদর্শন করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে যান পার্বতীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন তিনি, যা এই দুঃসময়ে কিছুটা সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।

এই ঘটনা নাসিমা বেগমের জীবনযাত্রার সংগ্রাম এবং দুর্ঘটনার নির্মমতা তুলে ধরে, যা সমাজে নিরাপত্তা ও জীবিকার চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।