যশোরে চলন্ত বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রাণহানি এড়াতে সক্ষম যাত্রীরা
যশোর-নড়াইল মহাসড়কের যশোর সদর উপজেলার দাইতলা এলাকায় চলন্ত একটি বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে চালক ও যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে পড়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বাসটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যশোর থেকে ঢাকাগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ পরিবহণের একটি বাস যাত্রা শুরুর আগেই গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ শনাক্ত হয়। পরে তা মেরামত করে বাসটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে দাইতলা এলাকায় পৌঁছার পর পুনরায় পাইপলাইনে সমস্যা দেখা দিলে মুহূর্তের মধ্যেই বাসটিতে আগুন ধরে যায়।
আগুন দ্রুত বাসের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে দরজা ও জানালা দিয়ে নেমে পড়েন। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, চোখের পলকেই বাসটি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে, যা আশেপাশের এলাকায় ভীতির সৃষ্টি করে।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই বাসটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। যশোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, "খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।"
অগ্নিকাণ্ডের কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। যশোর সদর উপজেলার চানপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, "অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।"
পুলিশের তদন্ত
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল ইসলাম জানান, যশোর থেকে বাসটি ছাড়ার আগে ড্রাইভার বাসটির ত্রুটির কথা বাস মালিকদের জানিয়েছিলেন। তারপরও মালিকদের জোরাজুরিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং সম্ভাব্য অবহেলার দিকগুলো খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।



