দৌলতদিয়ায় বাসডুবির তৃতীয় দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে নতুন করে কোনো লাশ উদ্ধার করা যায়নি। তবে, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
মুক্তা খাতুনের অভিযোগ ও ভাই রিপন শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা
মুক্তা খাতুন নামে এক নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করা হয়। মুক্তা খাতুন মোবাইলের মাধ্যমে জানান, তাদের বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার আড়কান্দি গ্রামে। তার ভাই রিপন শেখ (৪০) ঢাকার গাবতলি এলাকায় ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঈদের ছুটি শেষে গত বুধবার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
বিষয়টি রাজবাড়ী প্রশাসনকে জানানোর পর, তারা শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। মুক্তা খাতুন আরও উল্লেখ করেন, এক কর্মকর্তা তাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, তার ভাইয়ের মতো কেউ দুর্ঘটনা-কবলিত বাসটিতে ওঠেনি। এছাড়া, রিপনের কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
উদ্ধার অভিযানের বর্তমান অবস্থা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রাজবাড়ী জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. সোহেল রানা বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার দলের অভিযানে ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই লাশগুলো জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন করে একজনের দাবির প্রেক্ষিতে তৃতীয় দিনের মতো শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, বাসটি ৪০ সিটের ছিল এবং ২৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী দুর্ঘটনার সময় সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এছাড়া, আগে থেকে আরও কয়েকজন যাত্রী নিচে নেমে ছিলেন। তার মতে, সে হিসেবে আর কোনো যাত্রী সম্ভবত নিখোঁজ নেই। তবে, উদ্ধার টিম প্রস্তুত রয়েছে এবং কোনো নিখোঁজ সংবাদ পাওয়া গেলে অভিযান চালানো হবে।
দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ ও চলমান প্রচেষ্টা
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সংঘটিত এই বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যেকোনো নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠছে। উদ্ধার অভিযান চলাকালীন সময়ে দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও যাত্রীদের ভোগান্তিও লক্ষ্য করা গেছে।



