দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: ২৬ মরদেহ উদ্ধার, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় সংঘটিত বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত, তৃতীয় দিনেও কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি
দেওয়ান সোহেল রানা উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার অভিযানের তৃতীয় দিনেও ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আর কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি। তিনি বলেন, "আমরা ঘাট এলাকায় সক্রিয়ভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু নতুন করে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।"
একজনের নিখোঁজের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়া গেছে
বাসডুবির ঘটনায় একজন নিখোঁজ আছে বলে একটি তথ্য পাওয়া গেছে, তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান দেওয়ান সোহেল রানা। বালিয়াকান্দির মুক্তা নামে এক নারী তার ভাই রিপনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রিপন ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই বাসে উঠেছিলেন, কিন্তু দুর্ঘটনার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, "এই একটা মিসিংয়ের সংবাদ আমরা পেয়েছি। তাকে খোঁজ করে পেলে সে আমাদের জানাবে, না পেলেও আমাদের জানাবে।"
স্পিডবোট ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে তল্লাশি চলছে
সম্ভাব্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ঘাটের আশপাশের এলাকায় স্পিডবোট দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মরদেহ ভেসে গেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং করে নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য জানাতে স্থানীয়দের অনুরোধ করা হচ্ছে। দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, "আমরা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করছি, যাতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য দ্রুত আমাদের কাছে পৌঁছায়।"
এই দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



