খাগড়াছড়ির বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৩৫টির বেশি দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৪-৫ কোটি টাকা
খাগড়াছড়ির বাজারে ভয়াবহ আগুন, ৩৫+ দোকান পুড়ে গেছে

খাগড়াছড়ির বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৩৫টির বেশি দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৪-৫ কোটি টাকা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী নতুন বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৩৫টির বেশি দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

আগুনের সূত্রপাত ও দ্রুত বিস্তার

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ করেই বাজারের একটি গলিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে স্বর্ণের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

বোয়ালখালী বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন জানান, "রাত ৩টার দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩৫টির বেশি দোকান পুড়ে গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রথমে একটি গলিতে আগুন লাগলেও দ্রুত তা দ্বিতীয় ও তৃতীয় গলিতে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা ও নিয়ন্ত্রণ

খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস ও খাগড়াছড়ি থেকে আসা আরও একটি ফায়ার ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, "রাত ৩ টার দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোয়ালখালী বাজারের আগুন নেভানোর কাজ শুরু করি। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হই।" তিনি আরও যোগ করেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই না করে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে।

এই ঘটনা স্থানীয় বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।