জাপানের হনশু দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই
জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনশুতে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় রাতে এই ভূমিকম্পটি ঘটে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জার্মানির ভূবিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা এটি বিশেষভাবে শক্তিশালী করে তুলেছে।
ভূমিকম্পের বিস্তারিত ও পূর্বের ঘটনা
হনশু দ্বীপটি জাপানের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এবং এই শক্তিশালী কম্পনের ঠিক আগের দিন বুধবারও দেশটিতে ৪ দশমিক ২ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ২০ কিলোমিটার গভীরে, যা তুলনামূলকভাবে কম গভীরতায় অবস্থিত। তবে সর্বশেষ এই বড় মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, যা জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দক্ষতাকে ইঙ্গিত করে।
জাপানের ভূমিকম্পপ্রবণ প্রকৃতি
উল্লেখ্য, ভৌগলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা ‘রিং অব ফায়ার’ অংশের ওপর অবস্থান হওয়ার কারণে ভূমিকম্প জাপানে প্রায় নিয়মিত দুর্যোগ হিসেবে দেখা দেয়। রিং অব ফায়ার হলো প্যাসিফিক প্লেট এবং ফিলিপাইন সি প্লেট— এই দুই টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল, যা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের জন্য বিখ্যাত।
নিয়মিত ভূমিকম্প হওয়ার কারণে জাপানের বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনাগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে— যাতে সেগুলো নিম্ন থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে। এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও কঠোর নির্মাণ মানদণ্ড দেশটিকে প্রায়ই বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পরেও ক্ষয়ক্ষতি কম রাখতে সাহায্য করে।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জাপানের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে, যা বিশ্বব্যাপী ভূবিজ্ঞান গবেষণায় অবদান রাখছে।



