বাস দুর্ঘটনায় নিহত দম্পতির পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন
এক বছর আগে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সুখের সংসার গড়েছিলেন কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য ও তার স্ত্রী জহুরা অন্তি। কিন্তু, একটি মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় তাদের জীবনের সমাপ্তি ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজবাড়ীর শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাজবাড়ী পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ঈদের ছুটি শেষে সৌম্য ও জহুরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। বিকালের দিকে বড়পুল থেকে তারা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। বাসটি বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এসে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
প্রায় সাত ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে টেনে ওপরে তোলে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বাসের ভেতর থেকে সৌম্য ও জহুরার মরদেহ উদ্ধার করে। এই দুর্ঘটনায় মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের পরিচয় ও শোকগ্রস্ত পরিবার
নিহত কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্যের বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে। তার স্ত্রী জহুরা অন্তির বয়স ছিল ২৭ বছর, যিনি একজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ছিলেন এবং একই এলাকার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের মেয়ে।
সৌম্যের চাচা কাজী গোলাম আহমেদ শোক প্রকাশ করে বলেন, "আমার সেজো ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূ এই বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আমরা বাকরুদ্ধ, কারণ আমি এদেরকে সন্তানের মতো করে মানুষ করেছি। সৌম্যকে ছোটবেলা থেকেই আমি লালনপালন করেছি, লেখাপড়া করিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি, চাকরি দিয়েছি এবং বিয়ে দিয়েছি। সবকিছুই আমার হাত ধরেই হয়েছে।"
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে, এবং পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনেকেই এগিয়ে এসেছেন।



