কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে ভয়াবহ বাস সংঘর্ষ: ২০ জন আহত, চালক পালিয়েছেন
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের নান্দলা এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা করিমগঞ্জগামী অছিম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে নেত্রকোনা থেকে চট্টগ্রামগামী মিনহাজ পরিবহনের বাসের নান্দলা বাজার এলাকায় সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নান্দলা ও আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার জন্য পাঠান।
গুরুতর আহতদের মধ্যে দু’জনকে বিশেষায়িত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, মিনহাজ পরিবহনের চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, অছিম পরিবহনের চালক ঘটনার পরপরই অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
যান চলাচলে ব্যাঘাত ও পুলিশের পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, যা প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেকার ব্যবহার করে দুর্ঘটনাকবলিত একটি বাস সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ নিহত হয়নি। আহত ২০ জনকে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।” তার বক্তব্যে দুর্ঘটনার তদন্ত ও আহতদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রভাব ও সতর্কতা
এই ঘটনা মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নান্দলা এলাকায় অতীতেও অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালাচ্ছে।
আহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে, বিশেষ করে যারা গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন তাদের জন্য। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে বলে জানা গেছে।



