ধর্মীয় উৎসবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশাল যানজট, যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। লাঙ্গলবন্দ থেকে শুরু করে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রসারিত এই যানজটে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়ে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে লাঙ্গলবন্দ, বন্দর উপজেলায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী অষ্টমী স্নান উৎসবে অংশ নিতে আসা হাজার হাজার ভক্তের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
যানজটের বিস্তার ও কারণ
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানান, যানজট লাঙ্গলবন্দ থেকে গজারিয়া অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তিনি বলেন, "সকাল থেকেই হাজার হাজার ভক্তের সমাগমের কারণে মহাসড়ক ও সংলগ্ন রাস্তায় অত্যধিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি, তবে দিন যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভোগান্তির চিত্র। টিশা পরিবহনের চালক আবদুর রহিম মিয়া বলেন, "যানজটের কারণে গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে। অনেক যাত্রী তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।" অন্য একজন যাত্রী সাত্তার মিয়া জানান, তিনি ও তার সহযাত্রীরা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছেন এবং অনেকেই তাদের যানবাহন ফেলে হেঁটে যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতি
যানজটে আটকে পড়া যাত্রীরা পরিস্থিতিকে বিব্রতকর ও দুর্ভোগপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। অনেক পরিবহন শ্রমিক তাদের কাজে ব্যাঘাতের কথা উল্লেখ করেছেন। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা যানজট কমাতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার চেষ্টা করছেন। তবে ভক্তদের সমাগম বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।
অষ্টমী স্নান উৎসব একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত, যা প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্তকে আকর্ষণ করে। এবারের উৎসবে অংশগ্রহণের সংখ্যা অতীতের তুলনায় বেশি হওয়ায় যানজটের মাত্রাও বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী যানজট নিরসনে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালালেও, ভক্তদের চলাচল ও যানবাহনের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই যানজটের প্রভাব শুধুমাত্র মহাসড়কেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পার্শ্ববর্তী এলাকার রাস্তাগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অনেক ব্যবসায়িক ও জরুরি যাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ ও বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



