কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ জন নিহত
কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ নিহত, একই পরিবারের ৪ জন

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ জনের মৃত্যু

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একটি প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজন যাত্রী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কালাকচুয়া এলাকায়, মিয়ামি হোটেলের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘স্টারলাইন’ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১১৩১) চলন্ত অবস্থায় একটি প্রাইভেটকারকে (ঢাকা মেট্রো গ-৩৫-১৯৪৬) ডান পাশ থেকে সজোরে আঘাত করে।

বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রাইভেটকারে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের চালক জামাল হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত বাকি পাঁচজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও চারজনের মৃত্যু ঘটে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহত ও আহতদের পরিচয়

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন:

  • আব্দুল মমিন (৫০ বছর)
  • ঝর্না বেগম (৪০ বছর)
  • সাইফ (৭ বছর)
  • লাবিবা (১৮ বছর)

এছাড়া প্রাইভেটকারের চালক জামাল হোসেনও নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আবরার (১২ বছর), যিনি নিহত পরিবারের আরেক সদস্য, বর্তমানে ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন গণমাধ্যমকে জানান, “স্টারলাইন পরিবহনের বাসটি প্রাইভেটকারকে চাপা দেওয়ায় গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই চালক নিহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে বাবা-মা ও তাদের সন্তানরাও রয়েছেন।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই এলাকায় পূর্বেও বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা পরিবারটির আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। আহত শিশু আবরারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন সবাই।