রাঙ্গামাটিতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১৯ জন আহত, শিশুসহ নয়জন প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন
রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ নয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যখন বাকি দশজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কাউখালী উপজেলার সাপছড়ি এলাকায় সংঘটিত হয়।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাসটি নানিয়ারচর উপজেলা থেকে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাত্রা করেছিল। বাসে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই ঈদের ছুটির পরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। পরে পুলিশ গাড়িটি উদ্ধার করে বেতবুনিয়া পুলিশ আউটপোস্টে নিয়ে যায়।
আহত ১৯ জনের মধ্যে দশজনকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাসেল চাকমা, অন্তরা চাকমা, জুয়েল চাকমা, সাবিনয় চাকমা, দয়া রানি চাকমা, সুচরিতা চাকমা, রিপন চাকমা, শুভদেবী চাকমা, বিপিন চাকমা এবং শেফালিকা চাকমা।
অন্যদিকে, নয়জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে সাত মাস বয়সী শিশু রিপ চাকমাও রয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসাপ্রাপ্তদের তালিকায় আছেন ভুবেন্দু চাকমা, সুয়েন্তু চাকমা, বিটনা চাকমা, খোকন চাকমা, শুভ চাকমা, জয়া চাকমা এবং ফরসা চাকমা প্রমুখ।
চিকিৎসা সেবা ও পুলিশের পদক্ষেপ
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সাইকাত আকবর জানান, হাসপাতালে মোট ১৯ জন আহতকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনকে বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে, একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত তুহিন চাকমাকেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কাউখালী থানার অফিসার-ইন-চার্জ মো. এনামুল চৌধুরী বলেন, বাসটি উদ্ধার করে বেতবুনিয়া পুলিশ আউটপোস্টে নেওয়া হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে ঈদের পরে যাত্রী পরিবহনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা underscored করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালেও, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।



