কাপ্তাই লেকে গাছের ধাক্কায় লঞ্চ ছিদ্র, ২০০ যাত্রী রক্ষা
রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার পাগুজ্যেছুরি এলাকায় কাপ্তাই লেকে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে লঞ্চটি পানির নিচে থাকা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছিদ্র হয়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ায় প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, লঞ্চটি দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে জুরাছড়ি থেকে রাঙামাটি সদরের দিকে যাত্রা করেছিল। পথে পাগুজ্যেছুরি এলাকায় পৌঁছালে পানির নিচে থাকা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে, যা লঞ্চটির তলা ছিদ্র করে দেয়। এরপর লঞ্চে পানি উঠতে শুরু করে, যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চালক তাৎক্ষণিকভাবে লঞ্চটি তীরের কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে নামানোর ব্যবস্থা করেন।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ ঘটনার পর জানান, যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার পর অন্য একটি নৌযান দিয়ে তাদের গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে। লঞ্চটিকেও রাঙামাটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে মেরামতের জন্য। তিনি নিশ্চিত করেন যে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি, যা একটি বড় রকমের দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করেছে।
লঞ্চ মালিক সমিতির লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “জুরাছড়ি থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চটি পাগুজ্যেছুরি এলাকায় পৌঁছালে পানির নিচে থাকা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে, যা লঞ্চটির তলা ছিদ্র করে দেয়। যাত্রীরা আতঙ্কিত হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সবাই নিরাপদে রয়েছেন।”
নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এ দুর্ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামের নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেকের পানিতে ডুবে থাকা গাছ বা অন্যান্য বস্তু নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের উচিত নৌপথের নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ নৌযাত্রার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।



