পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন রাজবাড়ীর কর্মরত মর্জিনা খাতুন হাসি
রাজবাড়ীর পাংশা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার মর্জিনা খাতুন হাসি (৫৫) পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এলাকায় হাসি আপা নামে পরিচিত এই নাগরিক বুধবার কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া পালপাড়া থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মেয়ের বাসায় যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মর্জিনা খাতুন হাসি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাসডুবির ঘটনায় নিহত হন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার জুগিয়া রাস্তাপাড়া গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়। তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
মর্জিনার দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে আমেনা খাতুন গৃহিণী, আর ছোট মেয়ে ফাতেমা ফারহানা সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক। ফাতেমা ফারহানা একটি কোর্স করার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। দুই বোনই ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন।
পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা
মর্জিনার বড় মেয়ের স্বামী মনোয়ার হোসেন জানান, দুপুরে বাসে করে তার শাশুড়ি মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। বিকালের দিকে বাস গোয়ালন্দ ঘাটে পৌঁছালে বড় মেয়ে আমেনা খাতুনের সঙ্গে কথা হয়। মর্জিনা আমেনাকে জানিয়েছিলেন, ঘাটে বাস থেমে আছে এবং একটু পর বাস ফেরিতে উঠবে।
এর ঠিক ২০ মিনিট পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, বাস পানিতে ডুবে গেছে। খবর পেয়ে রাতেই তারা রাজবাড়ীতে যান এবং গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং ভোরে কুষ্টিয়ায় আনা হয়। জুগিয়া রাস্তাপাড়া গোরস্তানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রা
মনোয়ার হোসেন আরও উল্লেখ করেন, তার শাশুড়ির পিত্তথলিতে পাথর ছিল এবং সেই চিকিৎসা করানোর জন্যই তিনি ঢাকায় যাচ্ছিলেন। মর্জিনার স্বামী আবু বকর সিদ্দীক জানান, তিনি ঢাকায় মেয়ের বাসায় ছিলেন এবং দুপুরে অফিসের কাজ শেষ করে বাসে ওঠার সময় একবার কথা হয়েছিল, কিন্তু এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। হাসপাতালে গিয়ে তিনি মরদেহ দেখতে পান।
দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি
জানা গেছে, বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। সে সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল।
সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে হাসনা হেনা নামে একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ওই ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই ঘটনায় মর্জিনা খাতুন হাসিসহ অন্যান্য যাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা পদ্মা নদীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।



