রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবি: উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত, মৃত ২৬
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: উদ্ধার স্থগিত, মৃত ২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবি: উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাসের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি আর কোনও নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া যায়, তাহলে উদ্ধার কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।

দুর্ঘটনার সময় ও স্থান

বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য নামের যাত্রীবাহী বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে পড়ে মুহূর্তেই পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন সৌভাগ্যক্রমে ভেসে উঠতে পারলেও, অধিকাংশ যাত্রী বাসসহ ডুবে যান। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর বাসটি উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

যাত্রী সংখ্যা ও উদ্ধার কার্যক্রম

জানা গেছে, বাসটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার আগে তাদের মধ্যে কয়েকজন নিচে নেমে এলেও বাকিরা বাসের ভেতরেই ছিলেন। প্রথমে উদ্ধার হওয়া দুই নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন উদ্ধার অভিযান স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটি গঠন

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলোকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘আপাতত ডুবুরি দল ও সংশ্লিষ্টরা একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন। যদি কারও কোনও স্বজন নিখোঁজ থাকেন তাহলে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে। আমরা দুপুর ১টা পর্যন্ত আর কোনও নিখোঁজের সংবাদ পাইনি।’

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। সে সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে হাসনা হেনা নামে একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’

উদ্ধার অভিযানের অবস্থা

উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চালানো হয় রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি। বাসটি উদ্ধার করার পর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি আর কোনও নিখোঁজের তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে উদ্ধার কাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করা হবে।

এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো কাজ করছে। পদ্মাপাড়ে স্বজনদের আহাজারি এবং মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।